প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩
প্রকাশিত: ২০২৬-০৪-২৯ ১৭:১৫:৫৯
উবাঈদুল হুসাইন আল্ সামি, যশোর প্রতিনিধি:
“আর নয় শব্দদূষণ, চাই সুস্থ জীবন”—এই দৃপ্ত অঙ্গীকারকে সামনে রেখে যশোরে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে ‘আন্তর্জাতিক শব্দসচেতনতা দিবস’। বুধবার সকালে যশোর জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে শব্দদূষণকে জনস্বাস্থ্যের জন্য এক ‘নীরব ঘাতক’ হিসেবে চিহ্নিত করে এর প্রতিকারে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর যশোর জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক রফিকুল হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার এবং প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন।
আলোচনা সভায় বক্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আধুনিক নগরায়নের ফলে শব্দদূষণ এখন এক চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। মাত্রাতিরিক্ত হর্ন, উচ্চশব্দে মাইক বাজানো এবং যত্রতত্র কলকারখানার শব্দের কারণে মানুষের শ্রবণশক্তি হ্রাস পাচ্ছে। বক্তারা উল্লেখ করেন, শব্দদূষণ উচ্চ রক্তচাপ, অনিদ্রা এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। এটি মানুষের মধ্যে বিরক্তি, মনোযোগের অভাব এবং মেজাজ খিটখিটে হওয়ার অন্যতম কারণ। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা শব্দদূষণের ফলে দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।
প্রধান অতিথি রফিকুল হাসান বলেন, "শুধুমাত্র আইন দিয়ে শব্দদূষণ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন সর্বস্তরের মানুষের সচেতনতা। তবে যারা ইচ্ছাকৃতভাবে উচ্চশব্দ তৈরি করে জনজীবন অতিষ্ঠ করছে, তাদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইনের যথাযথ ও কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।"
বিশেষ অতিথিরা আরও বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের সামনে 'নো হর্ন' জোন নিশ্চিত করতে হবে। চালকদের অকারণে হর্ন বাজানোর প্রবণতা পরিহার করার জন্য নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালানোর ওপর তারা জোর দেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বাস মালিক সমিতির প্রতিনিধি, শ্রমিক ফেডারেশনের নেতা, স্কাউটস এবং বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অংশগ্রহণকারী সংগঠনের প্রতিনিধিরা শব্দদূষণমুক্ত একটি সুস্থ ও শান্ত শহর নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সাথে একযোগে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
সভা শেষে একটি সংক্ষিপ্ত জনসচেতনতামূলক বার্তায় জানানো হয় যে, পরিবেশ রক্ষায় এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়তে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ এখন সময়ের দাবি। সমাজের সকল স্তরের মানুষকে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।#