প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩
প্রকাশিত: ২০২৬-০৪-২৮ ১৫:৪৬:৩১
অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে মাঠে থাকা সেনাবাহিনী ধাপে ধাপে ব্যারাকে ফিরবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, সরকারের প্রয়োজন ও বিদ্যমান আইন অনুযায়ী সেনাবাহিনী মাঠে দায়িত্ব পালন করছে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে তাদের প্রত্যাহার করা হবে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল, ২০২৬) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি কোস্টগার্ডের বিভিন্ন কার্যক্রম ও অর্জনের প্রশংসাও করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “দেশের বিদ্যমান আইন অনুসারে সরকারের চাহিদা অনুযায়ী সেনাবাহিনী মাঠে আছে। তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে তাদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, বর্তমানে মাঠে থাকা সেনা সদস্যরা নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করছেন এবং নির্বাচনসহ বিশেষ পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের মোতায়েন করা হয়েছিল।
এর আগে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনী মাঠে নামানো হয়েছিল। সেই সময় নির্ধারিত দায়িত্ব শেষে ধাপে ধাপে ফেরানোর কথা থাকলেও এখনো পুরোপুরি প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়নি।
জঙ্গিবাদ ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গে মন্তব্য ব্রিফিংয়ে জঙ্গিবাদ প্রসঙ্গেও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, দেশে জঙ্গি তৎপরতা নেই। তবে অতীতে বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার সংক্রান্ত বিষয়ে পুলিশ সদর দফতরের চিঠি সম্পর্কে তিনি অবগত নন বলেও জানান।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান বা বিশেষ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা জোরদার একটি নিয়মিত বিষয়।
কোস্টগার্ডের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও স্বীকৃতি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরা হয়। কোস্টগার্ড মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল জিয়াউল হক জানান, গত এক বছরে নদীপথে বাহিনীর কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে। তবে ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব পালনের সময় ১৬ জন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন এবং বাহিনীতে এখনো জনবল সংকট রয়েছে।
অনুষ্ঠানে সাহসিকতা ও অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৪ জন সদস্যকে বিভিন্ন পদকে ভূষিত করা হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড পদক, কোস্টগার্ড (সেবা) পদক এবং প্রেসিডেন্ট কোস্টগার্ড পদক অন্তর্ভুক্ত ছিল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনুষ্ঠানে বলেন, কোস্টগার্ডের জনবল বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নে সরকার বদ্ধপরিকর এবং এ বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।