প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩


জাতীয়

আজ থেকে রাজধানীর ১১টি পাম্পে ফুয়েল পাস বাধ্যতামূলক: জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়

প্রকাশিত: ২০২৬-০৪-২৮ ০৭:৩২:২৯

News Image

অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
আজ মঙ্গলবার ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ থেকে রাজধানীর ১১টি ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলের জ্বালানি নিতে ‘ফুয়েল পাস’ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্তের ফলে এসব পাম্পে কিউআর কোডভিত্তিক নিবন্ধন ছাড়া জ্বালানি দেওয়া হবে না। জ্বালানি বিতরণে স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা এবং ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা জোরদার করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

 

গতকাল সোমবার (২৭ এপ্রিল, ২০২৬) মন্ত্রণালয়ের ফেসবুক পেজে দেওয়া ঘোষণায় বলা হয়, প্রাথমিকভাবে রাজধানীর নির্বাচিত ১১টি ফিলিং স্টেশনে এই ব্যবস্থা কার্যকর হচ্ছে। শাপলা চত্বর, মহাখালী, উত্তরা, তেজগাঁও, মিরপুর, গাবতলী ও কালশী এলাকার কয়েকটি পাম্প এই তালিকায় রয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে চালুর পর এবার বাধ্যতামূলক পর্যায়ে যাচ্ছে উদ্যোগটি।

 

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ব্যবহারকারীরা ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করে কিউআর কোড সংগ্রহ করতে পারবেন। মোবাইলে সংরক্ষণ কিংবা প্রিন্ট কপি সঙ্গে রেখেও জ্বালানি নেওয়া যাবে। আইফোন ব্যবহারকারীদের পাশাপাশি যাদের স্মার্টফোন নেই, তারাও প্রিন্ট করা কিউআর কোড ব্যবহার করতে পারবেন। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত গাড়ির ‘ঘ’ সিরিজের নিবন্ধনও উন্মুক্ত করা হয়েছে।

 

সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, ফুয়েল পাস চালুর লক্ষ্য শুধু জ্বালানি সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং বিতরণ ব্যবস্থাকে আধুনিক করা। এর আগে ৯ এপ্রিল পরীক্ষামূলকভাবে এই অ্যাপ চালু হয়। পরে ২১ এপ্রিল ঢাকার কয়েকটি স্টেশনে এর ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়। এবার সেই পরিসর বাড়ল।

 

জ্বালানি বিভাগ বলছে, কিউআর কোডভিত্তিক এই ব্যবস্থায় সরবরাহ পর্যবেক্ষণ সহজ হবে, অনিয়ম কমবে এবং দীর্ঘ লাইনের চাপও কমতে পারে। ইতোমধ্যে কিছু পাম্পে অপেক্ষার সময় কমেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

 

তবে ব্যবহারকারীদের একাংশ সার্ভার জটিলতা ও তেলের সীমা নির্ধারণ নিয়ে উদ্বেগও জানিয়েছে। অনেকের অভিযোগ, “সার্ভার ডাউন” থাকলে নিবন্ধন ও ব্যবহার দুটোতেই ভোগান্তি হচ্ছে। এ নিয়ে সরকারের কাছে সার্ভার সক্ষমতা বাড়ানো এবং প্রয়োজনে জ্বালানি সীমা পুনর্বিবেচনার দাবি উঠেছে।

 

জ্বালানি খাতে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার এই নতুন ধাপ কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। রাজধানীতে সফল হলে এটি দেশজুড়েও বিস্তৃত হতে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।