প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩
প্রকাশিত: ২০২৬-০৪-২৭ ২০:১৭:৩৫
ছবি: সংগৃহিত
অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে র্যাব। বাহিনীর দাবি, চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লায় ফেরার পথে তিনি একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের টার্গেটে পড়েন। যাত্রীবেশী ওই চক্র তাকে সিএনজিতে তুলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে এবং চলন্ত গাড়ি থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, গত ২৪ এপ্রিল রাতে চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা দেন বুলেট বৈরাগী। পথে তিনি বাস থেকে নামার পর জাগুরঝুলি এলাকায় অবস্থানরত চক্রটি তাকে টার্গেট করে। পরে কৌশলে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নেয় তারা। এরপর শুরু হয় ছিনতাই ও নির্যাতন। একপর্যায়ে কোটবাড়ি এলাকায় চলন্ত সিএনজি থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পরদিন ২৫ এপ্রিল সকালে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকায় একটি হোটেলের পাশে তার মরদেহ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশ। মরদেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে জানায় পুলিশ। এরপর নিহতের মা অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীর লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, “গ্রেপ্তাররা পেশাদার ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য। তারা যাত্রীবেশে সিএনজিতে উঠে টার্গেটকে অপহরণ, ছিনতাই এবং প্রয়োজনে হত্যা করত।”
র্যাব আরও জানায়, গ্রেপ্তার পাঁচজন হলেন মো. সোহাগ, ইসমাইল হোসেন জনি, ইমরান হোসেন হৃদয়, রাহাত হোসেন জুয়েল এবং সুজন। কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সিএনজি, চাপাতি, সুইচ গিয়ারসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা হত্যার দায় স্বীকার করেছে বলে জানায় র্যাব। তারা দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কে দূরপাল্লার যাত্রীদের টার্গেট করে ছিনতাই ও ডাকাতি করে আসছিল।
নিহত বুলেট বৈরাগী ৪১তম বিসিএস নন ক্যাডার হিসেবে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি চট্টগ্রামে প্রশিক্ষণ শেষে কুমিল্লার বাসায় ফিরছিলেন।
র্যাব বলছে, ঘটনাটি শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়, বরং সংগঠিত অপরাধচক্রের ভয়াবহতা আবারও সামনে এনেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।