প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩


জাতীয়

বর্তমান সরকার সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের ভিভিআইপি মর্যাদার মেয়াদ কমালো ৬ মাস

প্রকাশিত: ২০২৬-০৪-২৭ ১৮:৫৮:১৮

News Image

অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে দেওয়া ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ বা ভিভিআইপি মর্যাদার মেয়াদ এক বছর থেকে কমিয়ে ছয় মাস নির্ধারণ করেছে সরকার। ফলে আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত তিনি বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী, এসএসএফের নিরাপত্তা সুবিধা পাবেন। এরপর এই বিশেষ মর্যাদা আর বহাল থাকবে না।

 

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নতুন সিদ্ধান্তে ড. ইউনূসের জন্য নির্ধারিত বিশেষ নিরাপত্তা সুবিধার সময়সীমা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে দায়িত্ব ছাড়ার পর যে মেয়াদে ভিভিআইপি সুবিধা বহাল থাকার কথা ছিল, তা ছয় মাস কমে যাচ্ছে।


১০ ফেব্রুয়ারি জারি করা প্রজ্ঞাপনে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব হস্তান্তরের পর এক বছরের জন্য ড. ইউনূসকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ঘোষণা করা হয়েছিল। ওই প্রজ্ঞাপনে বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইনের আওতায় তাকে এসএসএফ সুরক্ষা দেওয়ার কথা বলা হয়। তবে নতুন সিদ্ধান্তে সেই মেয়াদ আর পূর্ণ এক বছর থাকছে না।


১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকারের শপথের মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হয়। এর পর থেকেই ড. ইউনূস এসএসএফ নিরাপত্তা সুবিধা পাচ্ছিলেন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১০ আগস্ট পর্যন্ত সেই সুবিধা বহাল থাকবে।


সরকারি সূত্র বলছে, এই নিরাপত্তা সুবিধার আওতায় তার বাসভবন ও সংশ্লিষ্ট কর্মস্থলে এসএসএফ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা তল্লাশি এবং প্রয়োজন হলে দেশ-বিদেশ সফরেও নিরাপত্তা সমন্বয় করা হচ্ছে। তবে নতুন মেয়াদ শেষে এসব বিশেষ সুবিধার অবসান ঘটবে।


বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা শেষে এই সিদ্ধান্ত এসেছে বলে জানা গেছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নিরাপত্তা ও প্রোটোকল পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাবেক শীর্ষ রাষ্ট্রীয় দায়িত্বশীলদের নিরাপত্তা ও প্রটোকল কাঠামো নিয়ে নতুন করে নীতিগত পর্যালোচনার ইঙ্গিতও থাকতে পারে এই সিদ্ধান্তে। তবে সরকারিভাবে এমন ব্যাখ্যা নিশ্চিত করা হয়নি।


ড. ইউনূসকে ভিভিআইপি মর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত শুরু থেকেই আলোচনায় ছিল। এখন সেই মেয়াদ ছয় মাসে নামিয়ে আনা নতুন বিতর্ক ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।