প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩
প্রকাশিত: ২০২৬-০৪-২৩ ২১:৩৮:৩৮
এম আব্দুর রাজ্জাক, বিশেষ প্রতিনিধি:
আজ ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ বৃহস্পতিবার বগুড়ার জেলার আদমদীঘি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদা সুলতানাকে পদোন্নতির আনন্দ ও বিদায়ের আবেগঘন পরিবেশে সম্মাননা জানানো হয়েছে। সিনিয়র সহকারী সচিব পদে পদোন্নতি পাওয়ার পর তাকে পাবনা জেলায় বদলি করা হয়েছে। প্রায় দেড় বছরের কর্মময় সময় শেষে আজ ছিল তার আদমদীঘিতে শেষ কর্মদিবস।
এ উপলক্ষেআদমদীঘি উপজেলা অফিসার্স ক্লাবের উদ্যোগে কনফারেন্স রুমে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সহকর্মী ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা তার দক্ষতা, সততা ও আন্তরিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। বিদায়ের মুহূর্তে অনেকের চোখেই ছিল অশ্রু, প্রিয় সহকর্মীকে নতুন কর্মস্থলে সফলতা কামনা করেন সবাই।
এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা বেগমসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠান শেষে তাকে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। বিদায়ী বক্তব্যে মাহমুদা সুলতানা সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আদমদীঘিতে কর্মজীবনের স্মৃতি আবেগের সঙ্গে স্মরণ করেন।
দায়িত্ব পালনকালে ভূমি সেবায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। দালালমুক্ত কার্যক্রম নিশ্চিত, রাজস্ব আদায়ে অগ্রগতি এবং খাস জমি উদ্ধারে কঠোর অবস্থান নিয়ে প্রশংসিত হন। অবৈধ দখল ও মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযান পরিচালনা করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
জানা যায়, আদমদীঘি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদা সুলতানা দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ভূমি সেবায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। তার উদ্যোগে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পেয়েছে, দালালমুক্ত কার্যক্রম নিশ্চিত হয়েছে এবং বিগত বছরের তুলনায় রাজস্ব আদায়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। তিনি অবৈধ মাটি উত্তোলন, খাস জমি দখলসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন।
এ লক্ষ্যে একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করে দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন, যা প্রশাসনিক কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সম্প্রতি ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের সাগরপুর গ্রামে দীর্ঘদিন রাজস্ব বঞ্চিত খাস জমি বন্দোবস্তের মাধ্যমে প্রায় ৯ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়, যা স্থানীয় জনগণের ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে। তবে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের বিভিন্ন সুবিধা না পাওয়ায় তার কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি করে৷ ফলে তাকে বিভিন্ন সময় বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। এদিকে সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি নাগরিকত্ব, চারিত্রিক, ওয়ারিশ সনদ, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনসহ বিভিন্ন সেবায় বিশেষ গুরুত্ব দেন। সেবাপ্রত্যাশীদের ভোগান্তি কমিয়ে দ্রুত ও সহজে সেবা প্রদান নিশ্চিত করেছেন।
তিনি দায়িত্বকালীন সময়ে বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী ও মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ড স্বচ্ছতার সঙ্গে করে দিয়েছে। এছাড়াও রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাঁর এই সব কার্যক্রমে ইউনিয়নবাসী সন্তোষ প্রকাশ করে তাঁকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের মতে, তার উদ্যোগে প্রশাসনিক সেবায় গতি ও স্বচ্ছতা বেড়েছে, যা আদমদীঘির উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
এক কথায় প্রশাসনিক কর্মক্ষেত্রে তিনি ছিলেন উজ্জ্বল এক নক্ষত্র।