প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার ১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২


আলোচিত খবর

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৪ হত্যা মামলাসহ ৫ মামলায় আইভীর রহমানের জামিন

প্রকাশিত: ২০২৬-০২-২৬ ২২:০৫:৩৫

News Image

টাঙ্গাইল দর্পণ অনলাইন ডেস্ক:
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনের সময় দায়ের হওয়া চারটি হত্যা মামলাসহ মোট পাঁচ মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। 

 

আজ বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

 

আদালত সূত্রে জানা গেছে, যেসব মামলায় তাকে জামিন দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে চারটি ফতুল্লা থানায় দায়ের করা হত্যা মামলা। এগুলো হলো বাসচালক আবুল হোসেন মিজি হত্যা, আব্দুর রহমান হত্যা, মো. ইয়াছিন হত্যা এবং পারভেজ হত্যা মামলা। অপর মামলাটি নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় করা, যেখানে হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

আদালতে আইভীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন। সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট হৃদয় রহমান এবং সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু।

 

মামলার নথি অনুযায়ী, গত বছরের ৯ মে ভোররাত ৩টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার চুনকা কুটির থেকে সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর একে একে বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে হাইকোর্ট পাঁচ মামলায় তাকে জামিন দিলে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পর আপিল বিভাগ সেই জামিন স্থগিত করেন। পরবর্তীতে ১৮ নভেম্বর তাকে আরও পাঁচ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

 

এর আগে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে পোশাকশ্রমিক মিনারুল ইসলাম নিহত হওয়ার ঘটনায় করা মামলাতেও তার নাম আসে। ২০২৪ সালের ২০ জুলাই সন্ধ্যায় আদমজী এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন মিনারুল। তাকে খানপুরের ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ২৩ সেপ্টেম্বর নিহতের ভাই নাজমুল হক সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় শেখ হাসিনাসহ ১৩২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। সেই মামলায় এজাহারভুক্ত ১২ নম্বর আসামি ছিলেন সেলিনা হায়াৎ আইভী।

 

গত বছরের মে মাসে মিনারুল হত্যা মামলায় তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর হয়েছিল। পরে নতুন করে বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

 

সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন, হাইকোর্টের সর্বশেষ আদেশে পাঁচ মামলায় জামিন পাওয়ায় তার মুক্তির পথে আইনগত বাধা অনেকটাই কমেছে। তবে আপিল বা অন্য কোনো আইনি পদক্ষেপ হলে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হতে পারে।