প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার ২৫ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
প্রকাশিত: ২০২৫-০৮-২৬ ২২:৪৩:০৪
বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান
টাঙ্গাইল দর্পণ অনলাইন ডেস্ক:
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দিলেও সেটি সন্তোষজনক নয় বলে জানিয়েছে দল। যার ফলে তার সব ধরনের পদ ও সদস্যপদ ৩ মাসের জন্য স্থগিত করেছে বিএনপি।
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান নিয়ে ‘বিতর্কিত ও বিভ্রান্তিকর’ মন্তব্যের অভিযোগে গত ২৪ আগস্ট তাকে নোটিশ পাঠায় বিএনপি। এতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত জবাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে তার অনুরোধে সময়সীমা আরও ২৪ ঘণ্টা বাড়ানো হয়।
আজ ২৬ আগস্ট, ২০২৫ মঙ্গলবার বিকেলে ফজলুর রহমান চার পৃষ্ঠার লিখিত জবাব দেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর বরাবর। জবাবে তিনি দাবি করেন, দলের ক্ষতি হয় এমন কোনো বক্তব্য বা কাজ তিনি কখনো করেননি। বরং মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তিনি সব সময় জামায়াত-শিবিরকে ‘কালো শক্তি’ হিসেবে চিহ্নিত করে এসেছেন। তার ভাষ্য, “আমার প্রিয় দল বিএনপির ক্ষতি হয় এমন কোনো কথা বা কাজ আমি করিনি এবং করবও না। দলের নেতৃত্বের বিচারের প্রতি আমার আস্থা আছে।”
জবাবে ফজলুর রহমান ১১ দফা ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, জুলাই-আগস্ট আন্দোলন ছিল বিএনপিসহ জাতীয়তাবাদী শক্তির গণআন্দোলন, কিন্তু জামায়াত-শিবির ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সেটির ফসল কুক্ষিগত করেছে। এজন্যই তিনি তাদের বিরুদ্ধে বারবার কথা বলেছেন। তার দাবি, যদি কোনো বক্তব্য ভুল হয়ে থাকে তবে সেটি অনিচ্ছাকৃত।
তবে বিএনপি কেন্দ্রীয় দফতরের একাধিক নেতা জানান, ফজলুর রহমানের ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য হয়নি। তার বক্তব্যে দলের প্রতি অনুগত থাকার প্রতিশ্রুতি থাকলেও বিতর্কিত মন্তব্যের যথাযথ জবাব পাওয়া যায়নি। এ কারণে তার সদস্যপদসহ সব পদ আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকে মনে করছেন, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের ফসল নিয়ে জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল, ফজলুর রহমানের বক্তব্য সেটিকে আরও স্পষ্ট করেছে।